১৯৭১ সালের আমার কিছু ব্যাক্তিগত স্মৃতিচারণ ( ১ম পর্ব )
প্রথমে
আমাকে ধান বানতে শীবের গীত আরম্ভ করতে হচ্ছে এই লেখাটির পটভূমির প্রক্ষাপটে । তবে এই লেখাটি
সম্পূর্ণ আমার একান্ত ব্যক্তিগত এবং বাস্তব
অভিজ্ঞতার আলোকে একটি লেখা । তাই অনেক ভূল ভ্রান্তি থাকতেই পারে । কারণ এসব নিয়ে এখন আর কারো সঙ্গে আলোচনার
সুযোগও নেই । এসব ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষীদের একজন ব্যাক্তি এমিরেতাস অধ্যাপক আব্দুল আজিজ ছাড়া বর্তমানে আর কেউ জীবিত বা আমার
নাগালের মধ্যে নেই । তার সঙ্গে আমার আলোচনার সুযোগ ও সীমিত । আমি ৭০ বছর বয়সে এবং তিনি ৮০ বছর বয়সে ফেইস বুকে
এখনও সক্রিয় আছি । আমাদের বয়সের এফবিতে সক্রিয়
আর সিলেটে কমই আছেন । তাই ভবিষ্যত প্রজন্মের কোনো কাজে লাগতে পারে মনে করে এই লেখার
সুচনা ।আমি কোনো লেখক নই তাই লেখাটি হয়তো মানসম্মত ও হবে না । শুধু কিছু বাস্তব ঘটনা
আগ্রহীদের জানাতে এই লেখাটি আমার
লিখার অবতারণা । এখানে কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য না লিখলে লেখাটি স্পষ্ট হবেনা ।
লিখার অবতারণা । এখানে কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য না লিখলে লেখাটি স্পষ্ট হবেনা ।
১৯৬৮/৬৯ সাল থেকে মামা এমিরেতাস অধ্যাপক আব্দুল
আজিজের এমসি কলেজের ২য় ব্লকের হোষ্টেল সুপার ছিলেন এবং আমিও তার হোষ্টেল সুপারের বাসায় থাকতাম । আমরা যৌথপরিবারে সদস্য । গ্রামে আমরা এখনো যৌথ পরিবারে এক বাড়িতে বসবাস করি ।
তিনি তখন এমসি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান এবং সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন । তখন সরকারী চাকুরিতে তিনটা স্কেল ছিল । কলেজের লেকচারার ও সিভিল সার্ভিসের এন্ট্রি স্কেল ছিল ৩৭৫ টাকা এবং ইন্জিনীয়ারদের এবং ডাক্তারদের এন্ট্রি স্কেল ছিল ৩৫০ টাকা । তখন ডাক্তাররা ২য় শ্রেণীর গেজেটেড আফিসার এবং লেকচারার ,ইন্জিনীয়ার ও সিএসপি পাশ অফিসারেরা ছিলেন ১ম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার ছিলেন । তখন সরকারের চাকুরীজীবিদের শেষ সিনিয়র
স্কেল আরম্ভ হত ৭৫০ টাকা থেকে । পিএসসি তে পরীক্ষায় মাধ্যমে পাশ করে সিনিয়র স্কেলে নিযুক্তি পাওয়া যেত । সিএসপি পাশ অফিসার রা সরাসরি ৩৭৫ টাকা স্কেলে এসডিও বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্টেট পদে পোষ্টিং পেতেন । সার্কুল আফিসার বা থানা পর্যায়ের সিও রা বা ২য় শ্রণীর ম্যাজিষ্টেরা ২৭৫ টাকার স্কেলে চাকুরীতে ঢুকতে হত । আর তাদের প্রাদেশিক সরকারের ইপিসিএস পরীক্ষায় পাশ করে ২য় শ্রেণীর পদে নিযুক্তি পেতেন । এসোশিয়েট বা ডিপ্লোমা ইন্জিনীয়ারদের এনট্রি সরকারী স্কেল ছিল ২৬৫টাকা ও প্রদেশিক সরকারের চাকুরীতে ২১০ টাকার স্কেল ছিল। সরকারী এলডি ক্লার্কের স্কেল আরম্ভ হত ১১০ টাকা এবং ইউ ডি ক্লার্কের স্কেল ছিল ১৬০ টাকা , প্রাইমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্কেল ছিল ৬০ টাকা । তখন প্রাদেশিক সরকারের সচিবদের ফিক্সড বেতন ছিল ৩ হাজার টাকা আর কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবদের বেতন ছিল সম্ভবত ফিক্সড ৪ হাজার টাকা যা ছিলব্রিটিশদের চালু করা স্কেল যা পাকিস্তানে ও বদলানো হয়নি । তখন পিএসসি বা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন ইন্জিনীরিং এর ড: আব্দুর রসিদ । তিনি সাবেক ইন্জিনীয়ারিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা প্রাক্তন ভিসি ছিলেন । শিক্ষা বিভাগের তখন প্রধান ছিলেন ডিপিআই । বর্তমানে আছেন তিনজন মহাপরিচালক ।
অধ্যাপক আবদুল আজিজ ১৯৬৯ সালে প্রফেসর এবং সিনিয়র স্কেলের পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়ে পরীক্ষা দেন এবং সিলেকটেড ও হয়ে যান । কিন্তু নিযুক্তি পাওয়ার সময় তার বিলেতের ১৯৬৫ সালের লেস্টার ইউিনিভার্সিটির এম এস সার্টিফিকেটে গ্রেডিং সিসটেম অনুসারে তার প্রাপ্ত সার্টিফিকেটে গ্রেড B+ছিল এবং ব্রেকেটে ভারত উপমহাদেশের প্রথম শ্রণীর সমান বলে উল্লেখিত ছিল ।কিন্তু পিএসসি চেয়ারম্যান এটি বিশ্বাস না করে তার নিয়োগ আটকে দেন । তখন বিলাতের ২/৩ টা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরাসরি তার কাছে চিঠি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল । এর পর তার বিশ্বাস জন্মেছিল । কিন্তু তখন প্রায় বছর খানেক সময় নষ্ট হয়ে যায় । এর পর তাকে আবার নতুন করে নিয়োগ পত্র ইসু করা হয় এবং তিনি অর্থনীতির অধ্যাপক পদে এমসি কলেজে তিনি জয়েন ও করেন ৷
তিনি তখন এমসি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান এবং সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন । তখন সরকারী চাকুরিতে তিনটা স্কেল ছিল । কলেজের লেকচারার ও সিভিল সার্ভিসের এন্ট্রি স্কেল ছিল ৩৭৫ টাকা এবং ইন্জিনীয়ারদের এবং ডাক্তারদের এন্ট্রি স্কেল ছিল ৩৫০ টাকা । তখন ডাক্তাররা ২য় শ্রেণীর গেজেটেড আফিসার এবং লেকচারার ,ইন্জিনীয়ার ও সিএসপি পাশ অফিসারেরা ছিলেন ১ম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার ছিলেন । তখন সরকারের চাকুরীজীবিদের শেষ সিনিয়র
স্কেল আরম্ভ হত ৭৫০ টাকা থেকে । পিএসসি তে পরীক্ষায় মাধ্যমে পাশ করে সিনিয়র স্কেলে নিযুক্তি পাওয়া যেত । সিএসপি পাশ অফিসার রা সরাসরি ৩৭৫ টাকা স্কেলে এসডিও বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্টেট পদে পোষ্টিং পেতেন । সার্কুল আফিসার বা থানা পর্যায়ের সিও রা বা ২য় শ্রণীর ম্যাজিষ্টেরা ২৭৫ টাকার স্কেলে চাকুরীতে ঢুকতে হত । আর তাদের প্রাদেশিক সরকারের ইপিসিএস পরীক্ষায় পাশ করে ২য় শ্রেণীর পদে নিযুক্তি পেতেন । এসোশিয়েট বা ডিপ্লোমা ইন্জিনীয়ারদের এনট্রি সরকারী স্কেল ছিল ২৬৫টাকা ও প্রদেশিক সরকারের চাকুরীতে ২১০ টাকার স্কেল ছিল। সরকারী এলডি ক্লার্কের স্কেল আরম্ভ হত ১১০ টাকা এবং ইউ ডি ক্লার্কের স্কেল ছিল ১৬০ টাকা , প্রাইমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্কেল ছিল ৬০ টাকা । তখন প্রাদেশিক সরকারের সচিবদের ফিক্সড বেতন ছিল ৩ হাজার টাকা আর কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবদের বেতন ছিল সম্ভবত ফিক্সড ৪ হাজার টাকা যা ছিলব্রিটিশদের চালু করা স্কেল যা পাকিস্তানে ও বদলানো হয়নি । তখন পিএসসি বা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন ইন্জিনীরিং এর ড: আব্দুর রসিদ । তিনি সাবেক ইন্জিনীয়ারিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা প্রাক্তন ভিসি ছিলেন । শিক্ষা বিভাগের তখন প্রধান ছিলেন ডিপিআই । বর্তমানে আছেন তিনজন মহাপরিচালক ।
অধ্যাপক আবদুল আজিজ ১৯৬৯ সালে প্রফেসর এবং সিনিয়র স্কেলের পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়ে পরীক্ষা দেন এবং সিলেকটেড ও হয়ে যান । কিন্তু নিযুক্তি পাওয়ার সময় তার বিলেতের ১৯৬৫ সালের লেস্টার ইউিনিভার্সিটির এম এস সার্টিফিকেটে গ্রেডিং সিসটেম অনুসারে তার প্রাপ্ত সার্টিফিকেটে গ্রেড B+ছিল এবং ব্রেকেটে ভারত উপমহাদেশের প্রথম শ্রণীর সমান বলে উল্লেখিত ছিল ।কিন্তু পিএসসি চেয়ারম্যান এটি বিশ্বাস না করে তার নিয়োগ আটকে দেন । তখন বিলাতের ২/৩ টা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরাসরি তার কাছে চিঠি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল । এর পর তার বিশ্বাস জন্মেছিল । কিন্তু তখন প্রায় বছর খানেক সময় নষ্ট হয়ে যায় । এর পর তাকে আবার নতুন করে নিয়োগ পত্র ইসু করা হয় এবং তিনি অর্থনীতির অধ্যাপক পদে এমসি কলেজে তিনি জয়েন ও করেন ৷
তখন দেশে প্রেসিডেন্ট আয়ুব খাঁনের শাসনের ১০ বছর পূর্ণ হওয়ায় ডিকেড অফ রিফর্ম পালন
আরম্ভ হয়েছে । কিন্তু আওয়ামী লীগের ছয় দফা এবং ছাত্রদের ১১ দফার আন্দোলন গণআন্দোলনে
রূপ নিলে আয়ুব খাঁন পূর্বপাকিস্থানের গভর্নার মোনায়েম খাঁ কে পরিবর্তন করে নিরপেক্ষ
ঢাকা ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির প্রাক্তন অধ্যাপক এবং পিএসসি মেম্বার ড: মির্জা নুরুল হুদাকে
গভর্নার নিযুক্ত করেন । তখন আন্দোলনের গতি আরো বেড়ে যায় । এই সময়ে বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা
রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার ১ নং আসামী করে গ্রেফতার করা হয় । তখন সর্বস্থরের মানুষ গণআন্দোলনে
যোগ দেয় এবং দেশে গণঅভ্যুথান হয়ে যায় । ফলে আয়ুব খাঁনের পতন হয় এবং জেনারেল এহিয়া খাঁন
দেশের ক্ষমতা দখল করে কড়া সামরিক আইন জারী করেন আর পূর্বপাকিস্তানের গভর্নার হিসেবে
মেজর জেনারেল আহসানকে নিয়োগ দেন । আহসান তখন ঢাকা অফিসার ক্লবে যাতায়াত করতেন । সেখানে
ঢাকা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জাহানারা বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তিনি ড়: শামসুর
রহমান এবং অধ্যাপক আব্দুল আজিজের অধ্যাপক নিয়োগ কে অবৈধ বলে তার কাছে নালিশ করেন ।
কিন্তু সামরিক গভর্নার জানতেন না যে পিএসসি এমন ক্ষমতাপ্রাপ্ত একটি
প্রতিষ্টান , নির্বাহী আদেশে তাদের কোনো ডিসিশন বা আদেশ গভর্নার বাতিল করতে পারেন না । তাই তিনি পিএসসির ঐ নিয়োগ আদেশ বাতিল করে দেন ।
তখন অধ্যাপক আব্দুল আজিজ ও অধ্যাপক শামসুর রহমান হাইকোর্টে গভর্নার , ডিপিআই এবং শিক্ষা সচিব কে আসামী করে রিট আবেদন করন । তাদের পক্ষের এডভোকেট ছিলেন গোলাম হাফিজ যিনি বিএনপির শাসন আমলে জাতীয় সংসদের স্পীকার নিযুক্তি পান । এ দিকে অধ্যপক আব্দুল আজিজ বিমানে করে ঢাকা রওয়না হন । তখন বিমানের অফিস ছিল জিন্দাবাজার বর্তমান কৃষি ব্যাংকের কাছে ,সেখান থেকে পিআইএর বাসে এয়ারপোর্টে নিয়ে যেত যাত্রীদের ৷ খুব সকালে কোনো বাহন না পাওয়ার আমি মটরসাইকেলে তাকে এয়ার লাইন অফিসে পৌছে দেই ৷ তখন ২২ সিটের ষ্টলসার্ভিস বিমান নতুন চালু হয়েছে । বিমানটি শমসরনগরে প্রথমে ল্যান্ড করে কিছু যাত্রীকে নামিয়ে বা সেখান থেকে যাত্রী উঠিয়ে নিয়ে ঢাকা যেত । কিন্তু ঐ দিন ঐ বিমানটি ল্যান্ড করতে শমসর নগর এয়ারপোর্টে দূর্ঘটনায় পতিত হলে ৮ জন যাত্রী মূত্যু বরণ করেন এবং অধ্যাপক আব্দুল আজিজ সৌভাগ্যক্রমে আহত অবস্থায় স্থানীয় কাঠুরিআলারা তাকে বিমানের বডি কেটে তাকে শেষ জীবিত এবং আহত অবস্থায় উদ্দারের পরে বিমানে আগুন ধরে ৮ জন যাত্রীসহ বিমানটি পুড়ে ছাই হয়ে যায় । এর অনেক পরে তিনি ভাল হয়ে আবার ঢাকা গিয়ে রিট আবেদন করেন এবং গভর্নারকে আসামী করায় তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা আরম্ভ হয় তখন থেকেই এবং ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধাদের সাহায্যকারী হিসেবে এবং হোষ্টেলের ছাত্রদের সহ স্বাধীন বাংলা বেতারের এবং বিবিসির খবর শোনার অপরাধে তার বিরুদ্বে তদন্ত করে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় এমসি কলেজের আরো তিন অধ্যাপক এবং প্রিনসিপালকে হত্যা করার প্রচেষ্ঠা ও শেষ মুহূর্তে সময়ের অভাবে ব্যর্থ হয়ে যায় । কারণ কিছু মুক্তিযুদ্ধা হঠাৎ করে সিলেট শহরের কাছে দুভূড়ী হাওরে হেলিকপ্টারে করে এসে অবতরণ করে এবং অন্যদিকে সিলেটে মুক্তিযুদ্ধারা ফাইটার বিমানে ব্যাপক বোমা বর্ষণ আরম্ভ করলে পাকিস্তানী বাহিনী সিলেট ক্যান্টনমেন্টে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যায় প্রাণ বাঁচাতে । কিন্তু রিটটি আর অগ্রসর করা যায়নি । শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষিত হয়ে যায় এবং মানুষের মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়ে যায় এবং বাংলা দেশ স্বাধীনতা আর্জনে পর নতুন শাসনতন্ত্র রচিত হয়ে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ঐ রিট আবেদনের সকল কাজকর্ম আর চালু করা যায় নি । ততদিনে এই দুইজন রিট আবেদনকারীর অনেক জুনিয়র সহযোগী অধ্যাপকের প্রমোশন পেয়ে চাকুরীতে তাদের সিনিয়র হয়ে যান । চলবে--
( বিদ্র : পাকিস্তানের শেষ পে কমিশনে শুধু সিএসপি পাশ সিভিল সার্ভসে পোষ্টিং যারা পেয়েছিলেন তারা এবং সরকারী কলেজের লেকচারেরা প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার ছিলেন আর সিএসপি পাশ কেউ কেউ ২য় শ্রেণীর পোষ্টে ও যোগদান করে ২য় শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার হয়ে যান । আর ডাক্তার ও ইন্জিনীয়ারা ২য় শ্রেণীর অফিসার ছিলেন । পরে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ইন্জিনীয়ার আব্দুর রসিদের তদবিরে পরে ইন্জিনীয়ারদের ও প্রথম শ্রণীর অধিকার দেয়া হয় । আর ডক্তাররা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমে শুধু এমবিবিএস ডাক্তাররা প্রথম শ্রণী পান , পরে অনেক সংগ্রাম করে ৪ বছর কোর্সের ডেন্টিষ্টরা প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড আফিসার পোষ্টের অধিকার আদায় করেন ) (এই লেখায় যে তারিখের উল্লেখকরা হয়েছে বা পে স্কেলের উল্লেখ হয়েছে তার কিছু হেরফের হতে পারে কারণ এটি আমার স্মৃতি থেকে কোনো লিখিত তথ্য ছাড়াই লিখেছি , ঐ সব অনিচ্ছাকৃত ভূলের জন্যে আমি দুঃখিত )
প্রতিষ্টান , নির্বাহী আদেশে তাদের কোনো ডিসিশন বা আদেশ গভর্নার বাতিল করতে পারেন না । তাই তিনি পিএসসির ঐ নিয়োগ আদেশ বাতিল করে দেন ।
তখন অধ্যাপক আব্দুল আজিজ ও অধ্যাপক শামসুর রহমান হাইকোর্টে গভর্নার , ডিপিআই এবং শিক্ষা সচিব কে আসামী করে রিট আবেদন করন । তাদের পক্ষের এডভোকেট ছিলেন গোলাম হাফিজ যিনি বিএনপির শাসন আমলে জাতীয় সংসদের স্পীকার নিযুক্তি পান । এ দিকে অধ্যপক আব্দুল আজিজ বিমানে করে ঢাকা রওয়না হন । তখন বিমানের অফিস ছিল জিন্দাবাজার বর্তমান কৃষি ব্যাংকের কাছে ,সেখান থেকে পিআইএর বাসে এয়ারপোর্টে নিয়ে যেত যাত্রীদের ৷ খুব সকালে কোনো বাহন না পাওয়ার আমি মটরসাইকেলে তাকে এয়ার লাইন অফিসে পৌছে দেই ৷ তখন ২২ সিটের ষ্টলসার্ভিস বিমান নতুন চালু হয়েছে । বিমানটি শমসরনগরে প্রথমে ল্যান্ড করে কিছু যাত্রীকে নামিয়ে বা সেখান থেকে যাত্রী উঠিয়ে নিয়ে ঢাকা যেত । কিন্তু ঐ দিন ঐ বিমানটি ল্যান্ড করতে শমসর নগর এয়ারপোর্টে দূর্ঘটনায় পতিত হলে ৮ জন যাত্রী মূত্যু বরণ করেন এবং অধ্যাপক আব্দুল আজিজ সৌভাগ্যক্রমে আহত অবস্থায় স্থানীয় কাঠুরিআলারা তাকে বিমানের বডি কেটে তাকে শেষ জীবিত এবং আহত অবস্থায় উদ্দারের পরে বিমানে আগুন ধরে ৮ জন যাত্রীসহ বিমানটি পুড়ে ছাই হয়ে যায় । এর অনেক পরে তিনি ভাল হয়ে আবার ঢাকা গিয়ে রিট আবেদন করেন এবং গভর্নারকে আসামী করায় তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা আরম্ভ হয় তখন থেকেই এবং ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধাদের সাহায্যকারী হিসেবে এবং হোষ্টেলের ছাত্রদের সহ স্বাধীন বাংলা বেতারের এবং বিবিসির খবর শোনার অপরাধে তার বিরুদ্বে তদন্ত করে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় এমসি কলেজের আরো তিন অধ্যাপক এবং প্রিনসিপালকে হত্যা করার প্রচেষ্ঠা ও শেষ মুহূর্তে সময়ের অভাবে ব্যর্থ হয়ে যায় । কারণ কিছু মুক্তিযুদ্ধা হঠাৎ করে সিলেট শহরের কাছে দুভূড়ী হাওরে হেলিকপ্টারে করে এসে অবতরণ করে এবং অন্যদিকে সিলেটে মুক্তিযুদ্ধারা ফাইটার বিমানে ব্যাপক বোমা বর্ষণ আরম্ভ করলে পাকিস্তানী বাহিনী সিলেট ক্যান্টনমেন্টে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যায় প্রাণ বাঁচাতে । কিন্তু রিটটি আর অগ্রসর করা যায়নি । শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষিত হয়ে যায় এবং মানুষের মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়ে যায় এবং বাংলা দেশ স্বাধীনতা আর্জনে পর নতুন শাসনতন্ত্র রচিত হয়ে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ঐ রিট আবেদনের সকল কাজকর্ম আর চালু করা যায় নি । ততদিনে এই দুইজন রিট আবেদনকারীর অনেক জুনিয়র সহযোগী অধ্যাপকের প্রমোশন পেয়ে চাকুরীতে তাদের সিনিয়র হয়ে যান । চলবে--
( বিদ্র : পাকিস্তানের শেষ পে কমিশনে শুধু সিএসপি পাশ সিভিল সার্ভসে পোষ্টিং যারা পেয়েছিলেন তারা এবং সরকারী কলেজের লেকচারেরা প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার ছিলেন আর সিএসপি পাশ কেউ কেউ ২য় শ্রেণীর পোষ্টে ও যোগদান করে ২য় শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার হয়ে যান । আর ডাক্তার ও ইন্জিনীয়ারা ২য় শ্রেণীর অফিসার ছিলেন । পরে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ইন্জিনীয়ার আব্দুর রসিদের তদবিরে পরে ইন্জিনীয়ারদের ও প্রথম শ্রণীর অধিকার দেয়া হয় । আর ডক্তাররা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমে শুধু এমবিবিএস ডাক্তাররা প্রথম শ্রণী পান , পরে অনেক সংগ্রাম করে ৪ বছর কোর্সের ডেন্টিষ্টরা প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড আফিসার পোষ্টের অধিকার আদায় করেন ) (এই লেখায় যে তারিখের উল্লেখকরা হয়েছে বা পে স্কেলের উল্লেখ হয়েছে তার কিছু হেরফের হতে পারে কারণ এটি আমার স্মৃতি থেকে কোনো লিখিত তথ্য ছাড়াই লিখেছি , ঐ সব অনিচ্ছাকৃত ভূলের জন্যে আমি দুঃখিত )
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন